Sunday, October 27, 2019

দীপাবলির দিন SSK MSK শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে চিঠি


শ্রদ্ধেয় প্রিয় শিক্ষক/ শিক্ষিকাগণ, দীপাবলীর শুভেচ্ছা জানিয়ে ও শিক্ষক ঐক্য বজায় রাখুন এই আবেদন জানিয়ে কয়েকটি কথা লিখছি।কেউ কষ্ট পান এই জন্য লিখছি না। তাই আগেই দূঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।সামশুলদা সহ অনেকেই বার বার গঠনমূলক আলোচনায় বাস্তব পরিস্থিতি  লেখার মধ্যে তুলে ধরেন। সেটা সরকার পন্থী ও বিরোধী পন্থী সবাই যাঁরা যুক্তি দিয়ে লিখছেন তাঁদের কিন্তু উপেক্ষা করছি না।ভালো লিখলেই আমাদের লক্ষ্য পুরন হবে না। এটা সত্য। অনেক অজানা তথ্য জানা জানা যায় এবং শিক্ষকদের মনোভাবও অনেকখানি প্রকাশ পায়।আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সরকারের কাছে আমাদের দাবি আদায় হবে বলে আমি মনেকরি।আমার সাথে কেউ সহমত না হতে পরেন? কিন্তু এটা বাস্তব অনেক শিক্ষক প্রতিমাসে অবসর নিচ্ছেন ,কেউ আগামীদিনে নেবেন। জঙ্গি আন্দোলন তাঁদের হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছেন।আন্দোলন সকলের স্বার্থে হওয়া উচিৎ।অনেকের আন্দোলনের নামে সরকার বিরোধীতা প্রধান লক্ষ্য,আমাদের উন্নয়ন গৌণ বলে মনে হচ্ছে। আমরা কোন সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি এটা আগে বোঝা দরকার।আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় হয় এই ধারনাটি কি 2011 র আগে ছিল না? তখন তো জঙ্গি আন্দোলন নামক কথা আছে জানতাম না। সাধারন আন্দোলন করা ছিল চিন্তার অনেক দূরে।তখন সরকারকে খুশি করায় ছিল একমাত্র কাজ। বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য পাটী ফাণ্ডে চাঁদা দেওয়া, বিভিন্ন পদযাত্রায় অংশ নেওয়া,বিভিন্ন সভা,সমাবেশ করা ছিল বাধ্যতামূলক।তখন সবার মনেহত পাটীর চাকরি করি সরকারের নয়।বাম পন্থিগণ এই উপলব্ধি বুঝবেন না।আজ আমরা স্বক্ষেত্রে অনেক স্বাধীনতা পেয়েছি এবং নির্দিধায় মত প্রকাশ করছি।তখন দলমত নির্বিশেষে সবাই এক দলের পতকার নিচে জড়ো হয়েছিলেন জীবিকার স্বার্থে।তখন কি ডান পন্থী শিক্ষক শিক্ষিকারা ssk/mskতে কর্মরত ছিলেন না?এরদ্বারা পরিস্কার বোঝা যায় আজকের বাম বা অন্য পন্থীরা প্রমান করে চলেছেন দল আগে পরে পেশা? তাহলে বলতে দ্বিধা থাকা উচিৎ নয় আজকের শাসক পন্থীরা উদার মনের শিক্ষক? আসুন না , আমাদের পেশার সার্থে ,পরিবারের সার্থে একটু মনটা বড় করে সরকারের পাশে থেকে দাবি আদায় করি।যেমনটা 2011 র আগে করতাম।যে সরকার নিয়মিত পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন করে দেশের ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে চলেছেন, তাদের থেকে কেন দূরে থাকব। প্রশ্ন হচ্ছে  সরকার আমাদের ভালো করবেন না কেন? সেইজন্য আমরা অনেকাংশে দায়ী।সুকৌশলে এমন মনোভাব তৈরী করা হচ্ছে এই সরকার আমাদের কিছু করেনি এবং করবে না।এই সরকার আসার পর কোন দপ্তরের কেউ চাকরী হারায়নি।আমাদের দপ্তরের কেউ কোন ssk/mskশিক্ষককে পাটী অফিসে ডেকে হেনস্থা করা হয়নি।প্রথাগত স্কুলগুলির মত অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পানীয়জল,শৌচাগার,বিদ্যুৎ সংযোগ,বাউণ্ডারী ওয়াল,রান্নাঘর,খাওয়ার ঘর ,স্কুল গ্রেণ্ট্ ,স্কুল ডেভলাপম্যান্ট্ গ্রেণ্ট্, লাইব্রেরী গ্রেণ্ট্ সহ পরিকাঠামো নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করেছেন।ছাত্রছাত্রীদের জন্য বই,খাতা,ব্যাগ,জুতো,পোষাক,মিড-ডে-মিল,শিক্ষাশ্রী,কন্যাশ্রী,ওবিসি ও মাইনোরিটি স্কলারশীপ ,আয়রন টেবলেট,কৃমির টেবলেট,সাধারন/জটিল রোগের জন্য সরকারি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা,বছরে দুবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা,বিভিন্ন টীকাকরণ, সায়েন্স এগজিবিশন,মার্কশীট, বহিঃমূল্যায়ন, সহ নানা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করে চলেছেন।শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিজ একাউণ্টে বেতন, ফের একবার 65 বছর পর্যন্ত চাকরীর নিশ্চয়তার নির্দেশ,উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স,ডিএলএড কোর্স,অন্য শিক্ষকদের সাথে পঠনপাঠন/স্কুল সংক্রান্ত নানা রকম প্রশিক্ষন,স্বাস্থ্যসাথী,বোনাস,শিক্ষারত্ন পুরস্কার,টি.এল. এম,নানা রকম ছুটি সহ বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছেন।1997 থেকে 2011 পর্যন্ত sskর বেতন ছিল 5,000 এর কিছু বেশী।শুরুর 1,000/-বাদ দলে বৃদ্ধি 14 বছরে মাত্র 4,000/- সেখানে এই সরকার 8 বছরে বৃদ্ধি করলো 5,000/-, msk  র 2003 থেকে 2011 পর্যন্ত 8,100/- অর্থাৎ শুরুর 2,000/- বাদ দিয়ে বৃদ্ধি 9 বছরে 6,100/-টাকা।এই সরকার 8 বছরে 7,000/-এর মত। A.S-দের আরো বেশী বৃদ্ধি হয়েছে।সর্বোপরি নতুন বছর থেকে  শিক্ষাদপ্তরের অন্তর্ভূক্তি করতে চলেছেন।এইসব সত্য নিশ্চয়ই সবাই অস্বীকার করবেন না।উল্লেখিত সুযোগ সুবিধাগুলির 90% আগের আমলে ছিল না।এরদ্বারা কি বলা যায় এই আট বছরে কিছুই হয়নি? না আগের আমলে কিছু হয়নি? তুলনাটা আপনাদের হাতেই ছাড়লাম।তার মানে এই নয় যে প্রাপ্য মর্যাদা এই সরকার আমাদের অনেক  দিয়েছে। শুধু বলতে চাই চোখ বুঝে বিরোধীতা করবেন না।এরপর নিজেদের মার্কশীট্ করুন ।শুধু দেখবেন অনেকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অকৃতকার্য।সবার কথা বলছি না।নিয়োগ থেকে 2011 পর্যন্ত অধিকাংশের এই নেই ,সেই নেই, এই দোষ ,সেই দোষ রয়ে গেছে।অনেকে সিভিক পুলিশের আন্দোলন  না করা সত্ত্বেও বেতন বৃদ্ধি কিন্তু আমাদের সাথে বৈমাতৃসূলভ আচরন হচ্ছে বলছেন । সঠিক কথা বলছেন।এটা সব সরকারই করে চলেছে।কংগ্রেস আমলে নিয়োগ NVF আপনাদের পাশাপাশি নিশ্চয়ই থাকবেন। বাম আমলের করুন কাহিনী একটু নিজে পরখ করুন।আর এই প্রশ্ন কোনদিন করবেন না এবং আপনি যদি শিক্ষক হন মনোভাবের আপনার পরিবর্তন হতে বাধ্য।সরকারের পাশে থাকব না,সমালোচনায় জর্জরিত করব ও জঙ্গি আন্দোলন করব কিন্তু সব দোষে দুষ্ট হয়েও সরকারকে দোষগুলি মুক্তকরে আমাদের ভবিষ্যৎ তৈরী করে দিতে হবে।এটা কি করে হয়।ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলি ভোট ছাড়া কিছু বোঝে না? Give&Take policy নিয়ে চলে এই সত্যটা মনে স্থান দিন।সরকারের থেকে আশা করতেই পারেন।উল্লেখিত ssk/msk  জন্য সরকারের ভূমিকাগুলি মানবিক বলে আপনার আশা তৈরী হয়েছে।অনেকেই সরকারের বিরোধিতা করে অনেক সঠিক কথাও লিখছেন।মানছি উনারাও শিক্ষক সার্থে সঠিক কথা লিখছেন।কিন্তু নিজেদের মধ্য এই লেখালেখির প্রতিযোগিতা মানে এটা বোঝানো হচ্ছে আমাদের সংগঠনের সরকার এই ভালো করেছে অন্য সংগঠনের সরকার তেমন কিছু করেনি।এতে কাজের কাজ কিছু হবে না । সবার নিজ পছন্দের সংগঠন/রাজনৈতিক দল করার অধিকার আছে।করুন ।করুন। করুন।সময় কারো জন্য থেমে থাকে না।অন্তত সেইসব শিক্ষকদের জন্য সরকারের কাছাকাছি আসুন যাঁরা অবসরের দরজায় দাঁড়িয়ে।আমরা কি নিজেদের পরিবারের সার্থে আগের মত সরকারের পাশে থেকে একটি সংগঠন তৈরী করে নিজেদের দাবি পুরন করতে পারি না? যদি না পারেন, তবে নিজেদের প্রথম পরিচয় শিক্ষক না বলে যাঁরা পেরেছিল তাঁদের প্রকৃত শিক্ষক বলুন এবং তাঁদের ত্যাগকে কুর্নিশ করুন।শিক্ষকরা সমাজ গড়ার কারিগর।রাজনৈতিক দলতৈরীর কারিগর বলা হয় না।সব সংগঠনকে বলছি সব কিছুর উদ্ধে উঠে রাজনৈতিক মত দূরে রেখে ও দলদাস মনোভাব ত্যাগ করে পেশার সার্থে ঐক্যবদ্ধ হোন।জয়হোক্ শিক্ষকদের এই কামনা রইল।পছন্দ না হলে গালাগালি দেবেন।অপেক্ষায় রইলাম।আজ কালীপূজা ও দীপাবলীর আরেকবার সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের  প্রীতি,শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা  জানাই। ভালো থাকুন ও সুস্থ্য থাকুন।ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই হবেন শেষ

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই  হবেন শেষ    প্রচলিত অনেক কথা আছে ------ "শিকারী বিড়ালের গোঁফ দেখলেই চেনা যায়  বা   মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশ...