Sunday, October 13, 2019

SSK MSK আন্দোলনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে , এ এক গভীর ষড়যন্ত্র

SSK MSK আন্দোলনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে , এ এক গভীর ষড়যন্ত্র



আমার শেষ লেখাটি বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছে । তাই আরও কিছু লেখার লোভ সামলাতে পারছি না । আজকে আমার আলোচ্য বিষয় আমদের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ।

প্রথমেই বলি গত লেখাতে একটি বিষয় পরিস্কার করতে পারিনি , যেটা এই লেখাতে পরিষ্কার করতে চাইছি । সেটা হল আমি বলেছিলাম "না তৃণমূল সরকার না সিপিএম সরকার কেউ আমাদের সামান্যতম উন্নতি করেনি ।" এই কথাটির উপর সব থেকে বেশি বিরোধিতা হয়েছিল । তাই এটাকেই আগে পরিষ্কার করতে চাইছি । আপনারা এর বিরুদ্ধে বলেছেন সিপিএম সরকার যদিও বা কিছুটা করেছিল ! তৃণমূল তো কিছুই করেনি । সিপিএম 1000 থেকে 5000 এবং 2000 থেকে 8000 করেছিল । তৃণমূল তো সেটাও করেনি ! কথাটির সাথে আমি একমত সিপিএম যদিওবা কিছু করেছিল তৃণমূল সেটাও করেনি । আমি আবারও বলছি আমি তৃণমূলী ও নয় আমি সিপিএম এরও লোক নয় । আমি আপনার মত এক সাধারণ বঞ্চিত অবহেলিত MSK শিক্ষক । আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম আমাদের জন্য যতটা উন্নতি করার তা কোন সরকারই করেনি । আশাকরি এবার আমি আমার বক্তব্য পরিষ্কার করতে পেরেছি ।

গত লেখায় আমি বলেছিলাম যে বেতন বৃদ্ধির কথা আগে থেকেই ঘোষিত হয়েছিল , অনেক আন্দোলন করার পরও সেটাকেই মান্যতা দেওয়া হয় । তাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছিলাম ঠিকই কিন্তু সফলতা আসেনি । আংশিক সফলও হয়নি ।  অনেক শিক্ষকই বুঝেছেন এটার মধ্যে কিছুটা হলেও সারবত্তা রয়েছে । হয়তো দু একজন বিরোধিতা করেছেন , কিন্তু নিশ্চিতভাবেই তারাও বুকে হাত রেখে নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে এই কথাটিকে অস্বীকার করতে পারবেন না ।

গত লেখায় আমার তৃতীয় বিষয় ছিল SSK MSK শিক্ষকদের সর্বত্র অন্যায়ভাবে সরকার বিরোধী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে । এই কথাটি মোটামুটিভাবে সার্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছে । সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে সব জায়গায় SSK MSK শিক্ষকদের ব্যবহার করা ঠিক হচ্ছে না ।

আজ আমি প্রমান করবো আমাদের আন্দোলন অনেকদিন আগেই রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে । রাজনৈতিক ফায়দা তোলার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে । এটা একটা "অরাজনৈতিক মঞ্চ" এই তোতার বুলি শুনে শুনে আমাদের কান আজ ভোঁতা হয়ে গেছে । কথায় আছে একটা মিথ্যা কথাকেও বারবার বলা হলে সেটা সত্যি বলে মনে হয় । উক্ত দলটি "অরাজনৈতিক মঞ্চ" এই ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই হয়েছে ।

প্রথমেই বলি এই অরাজনৈতিক মঞ্চের যিনি স্বঘোষিত কর্ণধার(আশাকরি কার কথা বলছি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না ) তার ব্যাপারে । স্বঘোষিত এই কারণে বলছি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে তিনি তার মঞ্চের বাকি সদস্যের বহিস্কার করেছিলেন । জানিনা যিনি সর্বদা আইন-সংবিধান-নিয়মের কথা বলে থাকেন তিনি কোন নিয়মে একাই বাকি ছয়জন সদস্যকে বহিস্কার করেছিলেন ? আমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি সেই নেতাকে যদি এর সদুত্তর থাকে তো জানাক ! আপনাদের কারো কাছেও যদি এর উত্তর  জানা থাকে তাহলে জানাবেন । আমার মনে হয় এটা "গা-জোয়ারি" নিয়ম । আপনাদের যুক্তিসঙ্গত মতামতের অপেক্ষায় রইলাম ।

 তো  এহেন নেতা যিনি কিনা স্বঘোষিত বামপন্থী সমর্থক বামপন্থী দলের হয়ে যিনি গত লোকসভা ভোটে প্রচারও করেছেন । এবার এখানে বলতেই পারেন । ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ যেকোন দলের সমর্থক হতেই পারেন । তা পারেন আমি অস্বীকার করছি না । কিন্তু সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন কোন অরাজনৈতিক মঞ্চে পদে পদে কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শকে  গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করে , তখনই আসে সমস্যা । হ্যা , ওটাই তিনি করছেন । ওনার দেওয়া প্রত্যেকটি ভিডিও থেকে আমি প্রমান দিতে পারবো আমার কথার সত্যতা ।

চলুন প্রমান দিয়েই দি । এরকম হাজারটা প্রমান দিতে পারি কিন্তু একটি দিচ্ছি । বাকি দায়িত্বটা আপনাদের । যেকোন ভিডিও চালিয়ে ওনার কথাগুলি নিরপেক্ষভাবে বিচার করার চেষ্টা করুন । দেখতে পাবেন উনি খুবই সচেতনভাবে বামপন্থী দলের প্রচার করার চেষ্টা করে চলেছেন ।
তো  আমি যে প্রমানটা দিচ্চি সেটা আজকের অর্থাৎ 13 ই অক্টোবরের  একটি ভিডিও থেকে । তাজা তাজা ভিডিও নিচ্ছি তাহলে আপনাদেরও বিষয়টি উপলব্ধি করতে সুবিধা হবে ।
তো আজকে একটি চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে তিনি বললেন  "এতদিন আট বছরে কিছুই হয়নি । তৃণমূল সমর্থিত SSK MSK দলগুলি  কিচ্ছু করেনি । সিপিএম সমর্থিত দলগুলি তার মত চেষ্টা চালিয়েছিল , যদিও দাবি আদায় করতে পারেনি । আর বিজেপির তো কোন অস্তিত্বই ছিল না  ।" - আপনার কাছে এই কথাটা হয়তো তুচ্ছ হতে পারে কিন্তু আমার দৃষ্টি এড়ায় নি এখানেও তিনি চেষ্টা করেছেন বামপন্থী দলগুলির অকর্মণ্যতা ঢাকার । যেখানে অন্য দলগুলি নাকি কিছুই করেনি , সেখানে বামপন্থী দলই একমাত্র চেষ্টা করেছিল । এরকম প্রতিটি কথায় বামপন্থী দলের  অকর্মণ্যতা ঢাকার অপচেষ্টার হাজারো উদাহরণ দিতে পারি । কিন্তু সেই দায়িত্ব এবার আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম । এবার থেকে নিশ্চিতভাবেই সেই নেতাও কিছুটা সচেতন হবেন !

এবার আসি তার কিছু কর্মকান্ড নিয়ে যা থেকে প্রমান দেবো , তার এই কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি একটি বিশেষ দলকে ফায়দা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন এবং ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরি করে কোন দলের টিকিট আদায়ের চেষ্টা করছেন  ।

আমি এর আগের লেখাতেই প্রমান দিয়েছি যে SSK MSK শিক্ষকদের যেখানে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকার বিরোধী অস্ত্র হিসেবে । আসলে অন্যদিকে এর অর্থ হল এই কর্মকান্ডগুলি বিরোধী দলকে শক্তি প্রদান করছে এবং সেটা যে বিশেষ একটি দল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না ।
যেমন ধরুন একটা উদাহরণ দি , "শিক্ষক দিবসে"র দিন "লজ্জা দিবস" পালন করা হল । সত্যি ভাবতেই আমার লজ্জা করছে , এমন একটা পবিত্র দিনকে এমন একটা কলুষিত শব্দ যোগ করে দিনটির পবিত্রতা নষ্ট করা হল । তারপরেও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম লজ্জা দিবস পালন হচ্ছে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান আদায়ের জন্য তাহলে যেটা নাকি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল । অথচ কি আশ্চর্যজনক ভাবে  সেই অরাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত থাকলেন বামপন্থী নেতা সুজন চক্রবর্তী । ভাষণের নামে জোয়ালামুখী ফুটলো সেই মঞ্চ থেকে । সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মঞ্চের চারিদিকে রাজনৈতিক ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত করলো ।  বাহ ! বাহ ! কি দারুন ! আমরা দলে দলে পা মেলালাম সেই অঘোষিত বামপন্থী দলের প্রচার সভায় ।  করতালিতে ভরিয়ে দিলাম বামপন্থী নেতার ভাষণের পরতে পরতে । কেন সেই মঞ্চে কোন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আনা হল না ? নাকি অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে ভাষণ দেওয়ার মত যোগ্যতা নেই ?নাকি আমার কথায় ঠিক SSK MSK শিক্ষকদের কাজে লাগানো হচ্ছে বামপন্থী দলের প্রচারের জন্য ? রাজনৈতিক ফায়দা দিচ্ছে একটি নির্দিষ্ট দলকে ! হয়তো বামপন্থী দলও পরখ করার চেষ্টা করছে সেই নেতার কতটা জনপ্রিয়তা ?
এবার শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিতে কেন সেই নেতাকে তোল্লাই দেওয়া হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করি । তৃণমূল এখন বিজেপির ভূত দেখছে , তাই শিক্ষামন্ত্রীও চাইছেন না এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক যাতে SSK MSK শিক্ষকেরা পুরোপুরি বিজেপির দিকে ঝুঁকে যাক ! মনে করেন না এই কথাটা আমি হাওয়ার কথা বললাম । আমি জানিনা আপনারা শুনেছেন কিনা ! কিন্তু আমি শুনেছি সেই অডিও ! যেখানে বর্তমানে ওই নেতার ডান হাত যিনি অর্থাৎ "চাচা সাহেব" ( আশাকরি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না আমি কার কথা বলছি ) স্পষ্ট করেছেন আমার উক্ত বক্তব্যটি । তিনি স্পষ্টতই সেই অডিওতে বলেছেন বিজেপি যাতে না উঠতে পারে তাই তড়িঘড়ি জেলায় জেলায় সম্মেলন করা হচ্ছে ! এরপরেও বলবেন যে মঞ্চটি অরাজনৈতিক !

এখানে আরো একটি বিষয় না উল্লেখ করে পারছি না আজ আমরা মুকুলেস রহমানকে দোষ দিচ্ছি , তিনি দোষী কি নির্দোষ সেটা অন্য প্রসঙ্গ । কিন্তু যদি তিনি সামান্য দোষী হন তাহলে "চাচা সাহেব" ও সমান দোষী । কৈ তার দিকে তো কোন আঙ্গুল উঠছে না ! সত্যিই কেন এই নীরবতা ? কেন এই মেনে নেওয়া ? কেন দুই ক্ষেত্রে দুরকম আচরণ ?

আশা করি আমি প্রমান করতে পেরেছি যাকে আজ "অরাজনৈতিক মঞ্চ" বলে বার বার প্রমান করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট মঞ্চ । যাকে কাজে লাগানো হচ্ছে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে । এরপরেও যদি আপনাদের চোখ না খোলে তাহলে চোখে জলের ঝাপটা নিন আর পুকুর ধার থেকে ব্রাহ্মী শাক তুলে খান । প্রথমটাতে চোখ পরিষ্কার হবে , দ্বিতীয়টাতে মাথা !

ধন্যবাদান্তে
জনৈক MSK শিক্ষক






No comments:

Post a Comment

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই হবেন শেষ

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই  হবেন শেষ    প্রচলিত অনেক কথা আছে ------ "শিকারী বিড়ালের গোঁফ দেখলেই চেনা যায়  বা   মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশ...