Wednesday, October 16, 2019

আমরা SSK MSK শিক্ষকরা হলাম সোনার ডিম পাড়া হাঁস থুড়ি শিক্ষক

আমরা SSK MSK শিক্ষকরা হলাম সোনার ডিম পাড়া হাঁস থুড়ি শিক্ষক 


আমি আমার কলম প্রথম দিনই থামিয়ে দিতাম । যদি আমার প্রশ্নগুলির সরাসরি উত্তর পেতাম । কিন্তু তার বদলে কি পেলাম ?  পেলাম শুধু ধমকানি আর চমকানি ! কোথায় যেন শুনেছি কথাটা ... "প্রতিবাদীর মৃত্যু প্রতিবাদের ভাষাকে দমাতে পারে না ।" তো আমার মনে হয় আপনাদের কিছু জনের ধমকানি চমকানিতে আমার কলম থামবে না , বরং আরও তীক্ষ্ণ হবে ।

আমার শেষ লেখাতেও আমি কতগুলো প্রশ্ন করেছি । যার কোনটিরই উত্তর পায়নি ।

আমি উত্তর পায়নি কেন কোন পারমিশন ছাড়াই বিধানসভা অভিযান করা হল ? কেন আমাদের মত বয়স্ক শিক্ষকদের বিপদের মুখে ফেলে দেওয়া হল ?আর এত বিপদের ঝুঁকি নিয়েও কি সামান্যতম লাভ হয়েছিল আমাদের ?

আমি উত্তর পায়নি পুরসভার SSK দের বোনাস পুজোর আগে হবে না , এটা তো সব সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল ! তারপরেও তিন ঘণ্টার ধর্ণা করে "পুজোর পর বিষয়টি নিয়ে বসা হবে !" এই নাটুকে ঘোষণা করে  কি বাহাদুরীর কাজ হল ! আসলে আন্দোলনটা বর্তমানে পাবলিসিটি স্টান্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

কেন প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন থেকে বর্তমান SSK MSK নেতাকে বহিস্কার করা হল ? একজনও এর উত্তর দেয়নি ! এমনকি স্বয়ং নেতাও এবিষয়ে সবসময় নির্বাক ! দেবে কি করে ? নিজের কুকর্ম , কি নিজমুখে স্বীকার করা সম্ভব ?

না পায়নি ! একটিরও উত্তর পায়নি ! শুধু পেয়েছি ধমক আর চমক ! আর পেয়েছি হুমকি ! সত্যিই আমি যেকটি লেখা লিখেছি অনুরোধ করবো একটু নিরপেক্ষ ভাবে পড়ুন ! তারপর ভাবুন  ! একটি প্রশ্নও কি সেখানে ভুল আছে ? যদি থেকে থাকে তার সরাসরি উত্তর দিন । তার বদলে আপনি যদি ধমক দিয়ে আমাকে থামানোর চেষ্টা করেন , মানুষ কিন্তু সেটাও দেখতে পাচ্ছে । বেশিরভাগ শিক্ষক রয়েছেন যারা সরাসরি কোন উত্তর দেন না , কিন্তু সজাগভাবে লক্ষ্য রেখে যান কে কি করছে ? তারা আমার করা ন্যায্য প্রশ্নগুলিও দেখছেন এবং তার উত্তরে আপনাদের কিছুজনের অশালীন মন্তব্য , ধমকানি চমকানিও দেখছেন ! নিশ্চিতভাবেই তারা কোনটা সঠিক ঠিকই বেছে নিচ্ছেন । আগামীদিনের আন্দোলনে এর প্রভাব পড়বেই । আমার লেখা যদি একজন মানুষকেও সঠিক পথ দেখাতে পারে , সেটাকেই আমি আমার সাফল্য মনে করবো ।

তো শুরু করা যাক আজকের বিষয় । আমরা SSK MSK শিক্ষক । যদিও এখনো শিক্ষকের মর্যাদা পায়নি । কিন্তু আপামর জনসাধারণ এত আইনের ঘোরপ্যাচ জানেন না  , তারা আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবেই জানেন ও মানেন । তো আমরা হলাম সোনার ডিম পাড়া হাঁস ! থুড়ি ! আমরা সোনার ডিম পাড়া শিক্ষক ! কিরকম ? চলুন আজ এটা নিয়েই আলোচনা করবো ! আজ দীর্ঘ বছর ধরে , সংগঠনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আমরা দিয়ে এসেছি ! আগে যারা নেতা ছিল তাদেরও দিয়ে এসেছি , এবং আজ যারা নেতা রয়েছে তাদেরও দিয়ে চলেছি । কি লাভ হয়েছে তাতে ? ঘরের হাঁসমুরগি বিক্রি করা পয়সাও তুলে দিয়েছি সেইসসকল বিবেকহীন নেতাদের অর্থলিপ্সু হাতের উপর । এবং জেনে রাখুন  আজ SSK MSK তে যত নেতার উদ্ভব হচ্ছে তার মূল কারণ এই টাকা ! আজ থেকেই শপথ নিন "আর একটি পয়সাও কাউকে দেবো না !" দেখবেন অর্ধেক নেতা এমনিই হাফিস হয়ে গেছে ! তারপরেও যারা নেতৃত্বে মাটি কামড়ে পরে থাকবে । জানবেন তারাই প্রকৃত নেতা ! রবীন্দ্রনাথ বলে গিয়েছিলেন "টাকায় মানুষ চেনা যায় !" এই বাক্যটি যে যে কতবড় ধ্রুব সত্য তা হাতেনাতে প্রমান পাবেন ।

দীর্ঘ আট বছর হোক অথবা আঠারো বছর হোক যত নেতা এসেছে আমরা শুধুই আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়েই গেছি । বিনিময়ে কি পেয়েছি ? পেয়েছি শুধু বঞ্চনা , অবহেলা !

এবার আপনারা নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবেন ... একটা আন্দোলন চালাতে গেলে তো পয়সা লাগে ! সেটা কোথা থেকে আসবে ? কেন , আন্দোলন মঞ্চ থেকে কি অর্থ সংগ্রহ করা যায় না ? যে অর্থ সংগ্রহ করা হবে কেন তার কোন হিসাব থাকবে না ? কেন গামছা পেতে অর্থ সংগ্রহ করা হবে ? কেন প্রত্যেকটি দেওয়া অর্থের হিসাব থাকবে না ? কেন কোন ব্যক্তিগত একাউন্টে অর্থ সংগ্রহ করা হবে ? জানি এই কেনর উত্তর আগেও পায়নি , হয়তো আজও পাবো না । এবং যেদিন এর উত্তর পাবো সেদিন নিশ্চিতভাবেই বুঝবো আন্দোলন সঠিকপথে চলেছে তার আগে নয় ।

প্রথমেই বলে রাখি আগে এবং পরে যত নেতা অর্থ সংগ্রহ করেছে এই লেখা সবার উদ্দেশ্যে । আমরা আজ বুঝে গেছি পুরোনো নেতারা শুধু টাকা খেয়েছে কাজের কাজ কিছুই করেনি । এবং বর্তমান নেতারাও যে সে পথেই চলেছে । আমি সেটাই বলতে চাইছি । আমি কারো পক্ষে বা বিপক্ষে নয় , আমি দু দুবার ধর্নামঞ্চেই ছিলাম । এবং আগামী দিনেও যা আন্দোলন হবে সেখানেও থাকবো । কিন্তু কেউ সামান্যতম অন্যায় করলে সেই অন্যায় কে সহ্য করবো না । চোখে আঙুল দিয়ে সেটা দেখাবো ।

গত কিছুদিন ধরে যে জেলায় জেলায় সম্মেলন চলছে বিশেষত উত্তর বঙ্গে যে সফর হয়েছে , সেখানে লক্ষ টাকার খেলা হয়েছে । কিভাবে ? বোঝাচ্ছি ! জনৈক নেতা জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ থেকে 3 হাজারের বেশি সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে । প্রত্যেকের কাছে 100 টাকা করে সদস্য চাঁদা সংগ্রহ করা হয়েছে । 3000 × 100 অর্থাৎ 3 লক্ষ টাকা । আমার প্রশ্ন এখন এই টাকা তোলার কি দরকার ? এটা যখন হচ্ছে তখনই সিটু সভাপতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল ! এভাবে চাঁদা তোলা যায়না ! এটা একটা আন্দোলন মঞ্চ । কেন একটা স্থায়ী ফান্ড করা হবে ? বিভিন্ন নেতা সেই সময় এই চাঁদা তোলার ব্যাপারে বিরোধিতা করেছিল । জানিনা তার পরের যে জেলা সফর গুলো হয়েছে সেগুলোতে আর সদস্যপদের নামে টাকা তোলা হয়েছে কিনা ? যদি সেটা বন্ধ করা হয়ে থাকে তাহলে জানতে হবে সেই নেতা অন্যায়ভাবে সেই টাকা তুলেছিল । আর যদি টাকা এখনও তোলা হচ্ছে , তাহলে সত্যিই বিষয়টি বেশ সমস্যার । পাঁচটি জেলায় যদি তিন লক্ষ টাকা তোলা হয়ে থাকে । বাকি জেলাগুলো মিলিয়ে কত টাকা হতে পারে ? ভেবে দেখুন ! এর আগে বিভিন্ন সময় যে টাকা তোলা হয়েছে সেই লক্ষ লক্ষ টাকার কথা নাহয় বাদই দিলাম !  প্রশ্ন করুন কিসের জন্য এই টাকা ? কার বাড়িতে আগুন লেগেছে , তার জন্য যদি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় , তাহলে কি সেখানেও  এই টাকা খরচ করা হচ্ছে ? আজ যেখানেই ঢিল পড়ছে সেখানেই SSK MSK শিক্ষকদের নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ সভা করা হচ্ছে ! তো সেখানেও কি আমাদের কষ্টের টাকা খরচ করা হচ্ছে ? এটা কি অন্যায় হচ্ছে না ?

আমি বলছি কেন কোন টাকা তোলা হবে ? আন্দোলন করতে গিয়ে প্রয়োজন হলে সেই আন্দোলন মঞ্চ থেকে সেই টাকা তোলা হোক  । তবে সেটা কখনই গামছা পেতে নয় ! প্রত্যেকটি টাকার যেন হিসাব থাকে ! টাকা যেন কোন ব্যক্তিগত একাউন্টে না জমা হয় ! টাকা যেন সংগঠনের নামে একাউন্টে জমা হয় । দেখুন যারা নেতা রয়েছে তারা কোনদিনই এই কথায় সহমত হবেন না । আপনার আমার মত সাধারণ শিক্ষকদেরই এই আওয়াজ তুলতে হবে । কারণ জেনে রাখুন তারা লাভের গুড় পাচ্ছে । গামছা করে যে টাকা তোলা হয় সেখানে এক লক্ষ টাকা উঠলে যদি কেউ বলে 50 হাজার উঠেছে বলে ... তাহলে কি সেই হিসাব পাওয়া যাবে ?

তাই আজ থেকেই আওয়াজ তুলুন ...আর একটাকাও দেব না । আন্দোলনের প্রয়োজনে সেই আন্দোলন মঞ্চে দেব । তার রশিদও থাকবে । এভাবে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা নষ্ট হতে দেবেন না । খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবেন আজ যে কারণে মুকুলেস রহমানকে দোষারোপ করেন , ওই একই কারণে বর্তমান নেতাদেরও আগামীদিনে ছিঃ ছিঃ করবেন ।

আজ কয়েকমাস ধরে যে আন্দোলন হচ্ছে সে নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছি । একটারও সঠিক উত্তর পাইনি । আমি বিশ্বাস করি যদি আজ আওয়াজ তোলেন "আর কোন টাকা দেব না" দেখবেন নেতার ভীড় পাতলা হয়ে যাবে । তবে বর্তমানের নেতাদের ইতিমধ্যেই যা টাকা খাইয়ে মোটা করেছি ,  আগামী দুবছর তাদের এমনিতেই সংসার চলে যাবে ।

ভাবুন...বুঝুন....তারপর উত্তর দিন । আপনি যদি আমার প্রশ্নগুলো গালাগাল দিয়ে থামানোর চেষ্টা করেন , আজ আমি শুধু একা করছি , আগামীদিনে আরো হাজারটা আওয়াজ উঠবে  ! তখন কি করবেন ?

ধন্যবাদান্তে
জনৈক MSK শিক্ষক

No comments:

Post a Comment

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই হবেন শেষ

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই  হবেন শেষ    প্রচলিত অনেক কথা আছে ------ "শিকারী বিড়ালের গোঁফ দেখলেই চেনা যায়  বা   মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশ...