Wednesday, April 1, 2020

একে বলে থিয়োরি অফ অয়েলিং ।। সমস্ত SSK MSK শিক্ষকেরা দেখুন


একে বলে থিয়োরি অফ অয়েলিং ।। সমস্ত SSK MSK শিক্ষকেরা দেখুন

SSK MSK NEWS
SSK MSK NEWS

আমি আবারো ফিরে এসেছি , মনে পড়ে আমায় ? আমি সেই জনৈক MSK শিক্ষক । যে সেদিন প্রতিবাদ করেছিল মাছরাঙার ! যে সেদিন প্রচণ্ডরকম সমালোচিত হয়েছিল মাছরাঙ্গার প্রতিবাদ করার জন্য !

আজ নিশ্চয়ই আপনাদের অনেকের ভুল ভেঙ্গেছে ! অনেকেই নিশ্চয়ই মাছরাঙার ভুলভুলাইয়া থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন । তবে এখনও যারা মোহ কাটাতে পারেননি তাদের জন্য এই লেখা ।

চলুন একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক । হঠাৎ আমার মন হল মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেব ! আমি কে ? ধরে নিন আপাতত আমি হলাম হাসপাতালের নার্সদের একটি সংগঠনের স্বঘোষিত সম্পাদক ।

তো ভাবা যেমন , কাজও তেমন আমি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিলাম –



মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ,
 প্রথমেই আমার সংগঠনের তরফ থেকে শুভেচ্ছা নেবেন । আপনি এই কঠিন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে লড়াই করে চলেছেন তারজন্য আপনাকে আমাদের হাসপাতালের নার্সদের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
আমরাও দিনরাত হাসপাতালে রোগীর সেবা করে চলেছি । এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার সাথে হাত হাত মিলিয়ে থুড়ি হাতে হাত মেলালে করোনা হতে পারে , তাই হাতজোড় করে নমস্কার করে কাজ করতে চাই ।
তাই করোনা মোকাবিলায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দিচ্ছি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন । আমাদের হাসপাতালের নার্সদের পক্ষ থেকে আপনার কাছে আবেদন বর্তমান পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে ডাক্তারদের ডিউটি ১২ ঘণ্টা থেকে ১৮ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিচ্ছি ।
আশাকরি উপরোক্ত আবেদনটিকে আপনি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন !   



নিশ্চয়ই হাসপাতালের ডাক্তাররা আমার এই প্রস্তাব শুনে আমাকে মাথায় তুলে ধন্য ধন্য করবেন  । তাই না ! তাই ই হচ্ছে ।
গতকালকে মাছরাঙার দেওয়া প্রস্তাব অনেকটা উপরের ক্যাটাগরির মধ্যে পরছে ।

মাছরাঙার সংগঠনটি মূলত ssk msk শিক্ষকদের নিয়ে । তাঁরা যদি হামমরোদি করে শিক্ষক এবং সরকারি কর্মচারীদের বিষয়ে প্রস্তাব দিতে যায় , তাহলে গালি আর কটুকথা ছাড়া কিছুই মিলবে না । তাই ঘটেছে । মাছরাঙার ফেসবুক প্রফাইলে গেলেই সেটা বুঝতে পারবেন । কি পরিমান মানুষ ছিঃ ছিঃ করছে তার এই আহাম্মকি কাজকে !

কিন্তু এতকিছুর পরও মাছরাঙ্গার কোন হেলদোল নেই ! এখন প্রশ্ন হল কেন ? আসলে এটা তার একটা সুকৌশলি পদক্ষেপ বলতে পারেন । এটাকে বলে “থিয়রি অফ হাইলাইটিং ইয়োরসেলফ” । আর সেটাতে সে দারুনভাবে সফল ।

যখন সবাই করোনা নিয়ে ব্যস্ত । মানুষ ঘরে আবদ্ধ । সে তো আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না । কিছু একটা করতে হবে যেন তাঁকে নিয়ে সবাই আলোচনা করে । আর সেই কারনেই এই আহাম্মকি চিঠি ! আহাম্মকি বলাটা ভুল বরং বলা ভালো কৌশলী চিঠি ।

করোনা ভুলে , বেতন বঞ্চনা ভুলে সবাই মেতে উঠেছে মাছরাঙাকে নিয়ে ! দেখুননা আমিও লিখতে বসেছি তাকেই নিয়ে । তাই তো সে সম্পুর্নরূপে সফল ।  কোন এক মহাপুরুষ বলেছেন হয় খুব ভালো হও নাহলে খুব খারাপ হও । তবেই তোমাকে নিয়ে হবে আলোচনা । আর সেটাই হয়েছে । একটু বিষয়টা তুলনা করে দেখবেন ।


অবশ্য এখানে আরও একটা থিয়োরি রয়েছে । যাকে বলে “থিয়োরি অফ ওয়েলিং” । বুঝতে পারছেন না তো ! এটা কি ? চলুন বুঝিয়ে দিচ্ছি ।

মাছরাঙ্গার এই চিঠি দেওয়ার আরও একটি উদ্দেশ্য হলো মুখ্যমন্ত্রীর মন জয় করা । দেখুন আমি কত ভালো ! আমি বলছি মাইনের ২৫ % কেটে নিয়ে জনহিতে কাজে লাগান । এই না হল মানুষ । না না মানুষ না মহাপুরুষ ! তবেই না আসা যাবে মুখ্যমন্ত্রীর নেকনজরে । আসলে মাছরাঙার চোখ তো ২০২১ । তবে জেনে রাখুন ২১ শে মিলবে ঠ্যাঙ্গা !

এখানে আরও একটা থিয়োরি কাজ করছে । কি বোর হচ্ছেন ? আর একটু সময় নেবো আপনাদের । পড়ুন না কষ্ট করে । বাড়িতে তো বসেই থাকবেন !

তো এই থিয়োরির নাম হল “থিয়োরি অফ দু নৌকায় পা” । আজ খানিক মুখ্যমন্ত্রীকে অয়েলিং করলাম । এর দুদিন পর মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দা করে সাধারনের কাছে রয়্যালটি নেবো । বুঝলেন কিছু । একবার এদিক আর একবার ওদিক করে , গাছেরও খাবো আবার গোঁড়ারও কুড়বো । এখনও যদি না বোঝেন ।

একটা উদাহরণ দি দুদিন আগেই যে মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডকে ধর্মস্থানের বাক্স বলে আখ্যায়িত করেছিল । যার বৈধতা নিয়েই তুলেছিল প্রশ্ন এবং এর মাধ্যমে আপনাদের মন জয়ের চেষ্টা করেছিল ! দুদিন পরেই সেই ফান্ডেই বেতনের ২৫ % কেটে নেওয়ার অনুরোধ । বলি এটা কি মামদোবাজি চলছে । যা খুশি তাই !

না আর ভালো লাগছে না । এবার শেষ করবো হে মাছরাঙা তোমার মানুষের হায় লাগতে বেশি দেরি নেই । পরিশেষে একটাই কথা “ঘরে থাকুন , বেঁচে থাকুন !”

জনৈক MSK শিক্ষক

[ আপনি এবিষয়ে কি ভাবছেন ? নীচের কমেন্টবক্সে কমেন্ট করুন ! কেমন লাগলো লেখাটি তাও জানাবেন ! ]



No comments:

Post a Comment

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই হবেন শেষ

এখন যদি করেন কেস , অচিরে ই  হবেন শেষ    প্রচলিত অনেক কথা আছে ------ "শিকারী বিড়ালের গোঁফ দেখলেই চেনা যায়  বা   মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশ...